
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা নিয়মিত ও কার্যকরভাবে চালু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান।
তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ ও স্বল্পব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে আইনি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর ২টায় মিরসরাই উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতা রয়েছে।
গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে নিয়মিত মামলা গ্রহণ, দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জনগণের মধ্যে এ সেবার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার এবং অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল আনোয়ার ভূঁইয়া।
সভায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন মিরসরাই উপজেলা সমন্বয়কারী অনিক বড়ুয়া এবং এতে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় জনগণের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম।
ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হলে তা উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হয় বলে সোমাইয়া আক্তার উল্লেখ করেন।
এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে সোমাইয়া আক্তার তাঁর বক্তব্যে জোর দেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল আনোয়ার ভূঁইয়া বলেন, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত, হরিজন ও হিজড়াসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সব নাগরিকের বিচারিক সেবা নিশ্চিতকরণ ও ক্ষমতায়নে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত চালু করা হয়েছে।
সাজেদুল আনোয়ার ভূঁইয়া আরও বলেন, গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সচেতনতা কার্যক্রম এবং নিয়মিত তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সদস্যরা তাঁদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।
