মিরসরাইয়ে সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক: ৫ বছরে আবাদ বেড়েছে ৬২৫ হেক্টর


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। দিগন্তজোড়া মাঠে সরিষা ফুলের হলুদের সমারোহ শেষে ফলনের ভারে গাছ এখন নুয়ে পড়েছে এবং সর্বত্র ফসল কাটার ধুম চলছে।

ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন কৃষকরা। এই উপজেলায় দিন দিন সরিষার আবাদ বাড়ছে এবং অল্প পুঁজিতে বেশি লাভবান হওয়ায় চাষিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মিরসরাইয়ে ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ বছরের ব্যবধানে এই উপজেলায় সরিষার আবাদ বেড়েছে ৬২৫ হেক্টর।

২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় মাত্র ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হেক্টর, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬০ হেক্টর এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে একলাফে ৩২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৬২৫ হেক্টরে দাঁড়ায় এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরিষার আবাদ হয় ৬৫০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে উপজেলার দুর্গাপুর, খৈয়াছড়া, ইছাখালী, ওয়াহেদপুর ও করেরহাট ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষা আবাদ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা প্রদান ও কৃষি বিভাগের উদ্বুদ্ধকরণের ফলে চাষের পরিধি বেড়েছে। এছাড়া আগের তুলনায় সরিষার তেলের চাহিদাও বাজারে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মসজিদিয়া গ্রামের কৃষক বিপুল দাশ জানান, তিনি প্রতি বছর সরিষার আবাদ করেন এবং এবারও ১ একর জমিতে সরিষা আবাদ করে চমৎকার ফলন পেয়েছেন। বিপুল দাশ আরও জানান, তিনি নিজেই সরিষা থেকে তেল উৎপাদন করে তা বাজারজাত করে থাকেন।

তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা একরামুল হক জানান, এই বছর অনলাইন থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৫৪ শতক জমিতে তিনি প্রথমবার সরিষা চাষ করেছেন। একরামুল হক তার একটি জমিতে বারি-১৭ এবং অন্যটিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন, যা দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

অপর কৃষক নুরুল আবছার জানান, গত বছর অল্প চাষ করে বেশি লাভ হওয়ায় এই বছর তিনি তিনটি জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। নুরুল আবছার আরও জানান, নিজেদের চাষ করা সরিষা ভাঙিয়ে তারা সারা বছর সেই খাঁটি তেল খান, ফলে বাজার থেকে সয়াবিন তেল আর কিনতে হয় না।

ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের কৃষক মহিউদ্দিন টিপু জানান, প্রথমে তিনি শুধু নিজের পরিবারের জন্য অল্প জমিতে সরিষার আবাদ করেছিলেন। তবে এখন বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে মহিউদ্দিন টিপু বেশি করে সরিষার আবাদ করছেন।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনজুর হায়দার জানান, তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জোরারগঞ্জ এলাকায় চলতি বছর ১৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। মনজুর হায়দার উল্লেখ করেন, কৃষকদের প্রচেষ্টা ও সরকারি সহায়তায় ক্রমান্বয়ে এই চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, এই উপজেলায় চলতি বছর মোট ৫ হাজার কৃষক সরিষা চাষ করছেন। কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতাপ চন্দ্র রায় নিশ্চিত করেন।

সরিষার এই ব্যাপক ফলন স্থানীয়দের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।