
নতুন কমিটি গঠনে কোনো ধরনের তদবির বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, যারা ত্যাগী এবং গত ১৭ বছর দলের জন্য জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করেছেন, কমিটিতে তাদেরই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদেরনগর এলাকায় উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী এসব কথা বলেন।
নতুন সরকার গঠনের পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন জানিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, সংসদে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রথম বক্তব্য শোনার সুযোগ হয়েছে তার।
পবিত্র রমজান মাসেই এই নতুন যাত্রা শুরু হওয়াকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।
হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, সংসদ অধিবেশনের সময় সবার মনে একটি কষ্ট ছিল। অনেকের বিশ্বাস ছিল, যখন সবাই সংসদে যাবেন তখন মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হয়তো তাদের সঙ্গে থাকবেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। তবুও সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সবাই মিলে গণতন্ত্রের এই নেত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, রমজান মাসে ইফতার ও আজানের আগে যদি সবাই ৫ থেকে ১০ মিনিট একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইবাদত ও দোয়া করা যায়, তবে তা খুবই ভালো হবে।
এ সময় তিনি সবাইকে দেশ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, রাঙ্গুনিয়াবাসী এবং প্রয়াত নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করার আহ্বান জানান।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, রোজার মাসে দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানে এসেছেন এবং সেগুলো নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চান।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি একটি বিষয়ই বলেছেন—এই নির্বাচন তিনি একা করেননি, বরং সবাই মিলে করেছেন। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদে পৌঁছানোর পুরো কৃতিত্ব তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের দেন।
দলের নীতি হলো ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এবং দলের চেয়ে দেশ বড়। রাঙ্গুনিয়ার নেতাকর্মীরা নির্বাচনের সময় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সেই কথারই প্রমাণ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন হুমাম কাদের চৌধুরী।
দলীয় কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় সরকারে আসার পর নেতাকর্মীরা মনে করেন মামলা-মোকদ্দমার চাপ কমে গেছে এবং তারা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এতে অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান এবং আগের মতো ঘন ঘন বড় কর্মসূচিও হয় না। ফলে দল অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে বলে সতর্ক করেন হুমাম কাদের চৌধুরী।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি প্রতি মাসে একদিন নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার প্রস্তাব দেন।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, যদি প্রতি মাসের প্রথম শুক্রবার সবাই একত্রিত হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দল আরও শক্তিশালী হবে এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও যৌথভাবে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।
ছাত্রদল ও যুবদলের কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং খুব শিগগিরই নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।
তবে কখন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারাই নির্ধারণ করবেন বলে জানান হুমাম কাদের চৌধুরী।
তিনি বলেন, নতুন কমিটি গঠনের সময় নেতাকর্মীদের অতীত কর্মকাণ্ড, আচরণ এবং দলের জন্য তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
হুমাম কাদের চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পাবেন তাদের সবাই সর্বাত্মক সমর্থন করবেন।
দলীয় গ্রুপিং প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অনেকেই বলেন এটি কারও গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের। কিন্তু তার কোনো গ্রুপ নেই; তার একমাত্র গ্রুপ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
এখানে সবাই একই দলের কর্মী এবং তাদের নেতা একজনই—তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের সময়ও সেই ঐক্যের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছর রাঙ্গুনিয়ায় দল ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।
মাসিক বৈঠকের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিনিয়র নেতারাই নেবেন। তাদের সুবিধা অনুযায়ী দিন নির্ধারণ করা হবে এবং এ বিষয়ে দলের কমিটির প্রধান অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, এসব বৈঠকে নেতাকর্মীরা একসঙ্গে বসে সুখ-দুঃখ, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং দলকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সবার পরামর্শ নেওয়া হবে।
হুমাম কাদের চৌধুরী আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭-১৮ বছরের সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তিনি তৃণমূলের সব নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি নিশ্চিত করেন, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
আয়োজিত এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
