‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে ডলু খাল কেটে মাটি উত্তোলন, ভাঙনের ঝুঁকিতে সাতকানিয়ার সড়ক


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ডলু খাল থেকে খননযন্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

খালপাড় কেটে মাটি নেওয়ার ফলে পাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গত ৮ মার্চ সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা এলাকায় শাহ মজিদিয়া–ডেপুটিহাট সড়কের পাশে ডলু খাল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থ ও ৭–৮ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জাকির হোসেন রাব্বি নামের ওই ব্যক্তি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এই মাটি কাটেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টিপাতে খালের পাড় আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এতে পাশের শাহ মজিদিয়া–ডেপুটিহাট সড়কটি ভেঙে পড়তে পারে। এতে এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বারদোনা ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শাহ মজিদিয়া–ডেপুটিহাট সড়কের পাশে ডলু খাল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থ ও ৭–৮ ফুট গভীর করে বিশাল গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে‌।

সড়কের পাশ থেকে এক্সকাভেটর দিয়ে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ ট্রাক মাটি কেটে নেওয়ার প্রমাণ সেখানে চোখে পড়ে। ফলে বর্ষা শুরু হলে সড়কটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে প্রবল আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, ডলু খাল বর্ষাকালে প্রবল স্রোতের কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি করে এবং অতীতে খালের ভাঙনে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে খালপাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটায় নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. বেলাল উদ্দিন জানান, খননযন্ত্র দিয়ে অবৈধভাবে ডলু খাল থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মো. বেলাল উদ্দিন আরও জানান, বিষয়টি জানার পরপরই তিনি ইউএনও স্যারকে অবহিত করেছেন এবং এলাকাবাসীও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে অভিযোগ স্বীকার করে অভিযুক্ত জাকির হোসেন রাব্বি দাবি করেন, খালের ভেতরে তাদের নিজস্ব খতিয়ানের জায়গা আছে এবং বাড়ির রাস্তা তৈরির জন্য তিনি প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কিছু মাটি কেটেছেন।

জাকির হোসেন রাব্বি বলেন, বর্ষায় এটি আবার ভরাট হয়ে যাবে। মাটি কাটার সময় করিম নামে এক ব্যক্তি তার কাছে চাঁদা চেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জাকির হোসেন রাব্বি নিজেকে একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, তিনি কেন চাঁদা দেবেন? চাঁদা না পেয়ে করিমই প্রশাসনের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন তাকে ডেকেছিল এবং তার খতিয়ান দেখে প্রশাসন তাকে সঠিক বলে জানিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ডলু খাল থেকে মাটি কাটার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন।

বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন জানিয়ে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, রোববার অফিসে এসে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, সরকারি খাল, নদী বা জলাশয় থেকে অনুমতি ছাড়া মাটি উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নদী–খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি বা বালু উত্তোলন করলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে প্রাকৃতিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙন ও অবকাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি ব্যাপক হারে বাড়ে।