ম্যাজিস্ট্রেট যতক্ষণ, ফুটপাত দখলমুক্ত ততক্ষণ


রাস্তার ফুটপাত যেন জাদুকরের টুপি! ম্যাজিস্ট্রেট এলে সব পরিষ্কার, আর ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেই আবার আগের মতো হকারদের জটলা।

ঠিক এমন এক ‘ম্যাজিস্ট্রেট যতক্ষণ, দখলমুক্ত ততক্ষণ’ পরিস্থিতির মজাদার অথচ বাস্তব চিত্র দেখা গেল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী-চৌমুহনী এলাকায়।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে আজ রোববার (১৫ মার্চ) দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।

এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন আনোয়ারা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা।

ফুটপাতের ক্ষণিকের স্বাধীনতা

ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার গাড়ি দেখেই জাদুর মতো উধাও হতে শুরু করে চাতরী-চৌমুহনী বাজারের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ফলের দোকানগুলো।

তবে যারা জিনিসপত্র গুছিয়ে দ্রুত পালাতে পারেননি, তাদের কপালে জুটেছে জরিমানা।

অভিযানে শুধু ফুটপাত দখলই নয়, নিষিদ্ধ জায়গায় গাড়ি পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত দাম রাখা এবং অবৈধভাবে সড়ক দখল করে দোকান বড় করার দায়ে ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এই ৫টি মামলায় মোট ৩২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা।

‘ক্ষণস্থায়ী’ স্বস্তি

এই মোবাইল কোর্ট চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরাকে সহায়তা করেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবুল কালাম আজাদ।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি দল পুরো সময় জুড়ে কাজ করে।

অভিযান শেষে ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা জানান, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

জনস্বার্থে এ ধরনের কঠোর তদারকি ও উচ্ছেদ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে দীপক ত্রিপুরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

তবে তাদের মনে একটাই আক্ষেপ—ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, ফুটপাত কেবল ততক্ষণই মুক্ত ছিল। ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবার সেই চিরচেনা জবরদখল রূপে ফিরে চাতরী-চৌমুহনীর ফুটপাত!