পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে সরকার


দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কৃষির উন্নয়ন ও ভূপরিস্থ পানি সংরক্ষণের বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেছেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দিনাজপুর জেলা বিএনপির যৌথ আয়োজনে সাহাপাড়ায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে, আর এই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের কারণে স্থানীয় কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের খনন কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় ৩১ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। এর ফলে প্রায় এক হাজার ২০০ হেক্টর জমি সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। এতে বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহাপাড়ার খালের পাড়ে প্রায় সাত হাজার গাছ লাগানো হবে এবং মানুষের যাতায়াতের জন্য খালের পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।

দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশিরভাগই গ্রামে বাস করেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং চার কোটি পরিবারের মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের মতো এলাকায় কৃষি-নির্ভর মিল ও শিল্প স্থাপনের জন্য বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এতে স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কৃষকের বন্ধু ছিলেন স্মরণ করে তিনি দেশের উন্নয়নে জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।