
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি সচল করতে চীন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন, তবে উল্লেখযোগ্য কোনো সাড়া না পেয়ে এবার কড়া হুমকি দিয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং প্রণালিটি পুনরায় খুলতে সহযোগিতা না করলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে এবং ন্যাটো সাড়া না দিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি খুবই খারাপ হবে।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সেখানে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা প্রণালির সুবিধাভোগীদের কাজ। তেল পরিবহনের হার অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোপ ও চীন উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, যদি বেইজিং প্রণালিটি পুনরায় খুলতে সহযোগিতা না করে, তাহলে চলতি মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাছাড়া, সহযোগিতার আহ্বানে ন্যাটো সাড়া না দিলে কিংবা নেতিবাচক জবাব দিলে ভবিষ্যতে খুবই খারাপ কিছু ঘটবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গত প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সোমবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছিল।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ সচল করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এরমধ্যেই জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ওই এলাকায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে আপাতত তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে, সংঘাত বাড়তে পারে এমন পদক্ষেপ না নিতে অন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ নোয়েল বারোর সঙ্গে ফোনালাপের সময় আব্বাস আরাগচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘নিরাপত্তা ছাতা’ আসলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে উল্টো অস্থিরতা তৈরি করছে। তাই প্রতিবেশী দেশগুলো যেন নিজেদের ভূখণ্ড থেকে বিদেশি আক্রমণকারী বাহিনীকে বের করে দেয়, সেই আহ্বান জানান তিনি।
