
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ এবং সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। আজ সোমবার সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে মেয়র সব ধর্মের মানুষের জন্য চট্টগ্রামকে নিরাপদ ও সম্প্রীতির শহর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই শহরের মাটি ও মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারক ও বাহক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নাগরিকদের কাছে তিনি চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে কাজ করে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে দেননি জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে তারা সক্ষম হয়েছেন।
চট্টগ্রাম কেবল অর্থনীতির কেন্দ্র নয়, বরং এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ শহর বলে জানান ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি আরও বলেন, এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় এ দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রতিটি মানুষ যেন তার ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে, এমন একটি চট্টগ্রাম তারা গড়ে তুলতে চান। এ সময় তিনি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ বলেন, তারা বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই উপকৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন পবন বাদেহ। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এই সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
