
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কেটে বালু সংগ্রহের সময় ধসে পড়া পাহাড়ের নিচে বালুচাপায় জামশেদ আলম নামের এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগরের পাশের এলাকা সাইবেনিখীল ছড়ার কূলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।
নিহত জামশেদ আলম (৪৩) করেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ অলিনগর এলাকার মৃত আলি আকবরের ছেলে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, জামশেদ আলম পেশায় মূলত লাইটিং মিস্ত্রি ও বাবুর্চি ছিলেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি মাঝে মাঝে সাইবেনিখীল ছড়ারকূল এলাকায় লোকজন নিয়ে পাহাড় কেটে বালু সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। সোমবার সকালেও কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে বালু সংগ্রহের কাজ করার সময় হঠাৎ পাহাড় ধসে তিনি বালুচাপা পড়েন।
খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁকে প্রথমে বারইয়ারহাট পৌরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই জামশেদ আলমের মৃত্যু হয়। পরে স্বজনরা তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
নিহতের ভাগনে ফখরুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তাঁর মামা লাইটিং ও বাবুর্চির কাজের পাশাপাশি মাঝে মাঝে পাশের এলাকায় গিয়ে শ্রমিক নিয়ে পাহাড় থেকে বালু সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। সোমবার কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে বালু সংগ্রহের কাজে গেলে পাহাড় ধসে তিনি বালুচাপা পড়েন।
ফখরুল ইসলাম আরও জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি লোকজনের সহায়তায় মামাকে উদ্ধার করে বারইয়ারহাট পৌরবাজারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মামার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, দক্ষিণ অলিনগরের বাসিন্দা জামশেদ আলম সাইবেনিখীলের ছড়ারকূলে পাহাড় কেটে বালু সংগ্রহের সময় পাহাড় ধসে মারা যাওয়ার বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন।
ওসি কাজী নাজমুল হক আরও জানান, ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
