যানজট নেই, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই অংশের ৬২ কিলোমিটার এলাকায় এবারের ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে যাত্রীদের বাড়ি ফেরার চাপ শুরু হলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি, ফলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ নির্বিঘ্নে আপন ঠিকানায় পৌঁছাতে পারছেন।

প্রায় সময় যানজট লেগে থাকলেও এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখা যায়, যানবাহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী গাড়ির সংখ্যাও কমে গেছে, তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী কিছু পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। মহাসড়কে যানজট, চুরি-ডাকাতিসহ যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম জেলার প্রবেশদ্বার ধুমঘাট ব্রিজ থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সিটি গেট পর্যন্ত ৬২ কিলোমিটার সড়কে পুলিশ অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।

মহাসড়কে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ এবং তিন চাকার গাড়ি আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ছিনতাই রোধে কুইক সার্ভিস টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সড়কে বিকল হওয়া গাড়ি মেরামতের জন্য চারটি গ্যারেজ, একটি রেকার, দুর্ঘটনায় জরুরি সেবা দিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং দুটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বারইয়ারহাট-মাদারবাড়ি রুটে চলাচলকারী চয়েস বাসের চালক জসীম উদ্দিন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান। জসীম উদ্দিন বলেন, ঈদে গাড়ি চালানো নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত ছিলেন, কারণ গত এক সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোর সামনে এবং সীতাকুণ্ডের কিছু স্পটে যানজট লেগে ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জসীম উদ্দিন জানান, ওই তুলনার এখন রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা বলা যায়।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম শহর থেকে মিরসরাইয়ের মস্তাননগরে আসা উত্তরা বাসের যাত্রী আবু নছর বলেন, মাদারবাড়ি থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় তিনি গন্তব্যে চলে এসেছেন। কোথাও কোনো ধরনের যানজট ছিল না উল্লেখ করে আবু নছর জানান, অন্য বছরের তুলনায় এবারের যাত্রাটি ছিল অত্যন্ত স্বস্তির।

সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি বিষয়ে কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জাকির রাব্বানি বলেন, মহাসড়কে ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। জাকির রাব্বানি আরও জানান, মহাসড়কের যেসব এলাকায় বাজার ও বাসস্ট্যান্ড রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ তিন চাকার গাড়ি মহাসড়কে উঠলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একাধিক স্থানে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সড়কের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান জাকির রাব্বানি।

এ ছাড়া জোরারগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তাঁরা নিরলসভাবে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। মহাসড়কে কোনো ধরনের যানজট ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নেই জানিয়ে মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বিগত সময়ের তুলনায় এবার একেবারে স্বস্তি নিয়ে লোকজন বাড়ি যাচ্ছেন।