
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় এক সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে সুমি আক্তার ও তাঁর দেড় বছর বয়সী মেয়ে ওয়াজিহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী মোহাম্মদ মিজানকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দেয়াং বাজার এলাকার একটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর থেকে ওই মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী নিহত সুমি আক্তার কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকার বাসিন্দা। তিনি তাঁর স্বামী মোহাম্মদ মিজান এবং মেয়ে ওয়াজিহাকে নিয়ে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করতেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে নিহত সুমি আক্তারের বড় বোন ববি আক্তার অভিযোগ করে জানান, তাঁর বোন আত্মহত্যা করেননি, বরং তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ববি আক্তারের দাবি, স্বামী মোহাম্মদ মিজানের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে মিজান একটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ছুড়ে মারলে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোহাম্মদ মিজান দুজনের মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে দেন। এরপর তিনি তাঁর মাকে গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়ে দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানের আত্মহত্যার মিথ্যা খবর দেন। বিয়ের পর থেকেই সুমি আক্তার স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতেন বলে বড় বোন ববি আক্তার অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিবেশীরা মূল ঘটনা জানলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রতিবেশী ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না হলেও ববি আক্তারের এসব অভিযোগ সত্য বলে সম্মতি দিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইদ্রীস জানান, মোহাম্মদ মিজানের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ বেরিয়ে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মো. জুনায়েত চৌধুরী আরও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মোহাম্মদ মিজানকে ইতোমধ্যে পুলিশ আটক করেছে।
