
চট্টগ্রামের পটিয়ায় মহাসড়কে তিন বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে বাঁশি মোহন দাশ নামের এক যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার জেরে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী মার্সা পরিবহনের একটি বাস জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়ামুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময়ে ঈগল পরিবহনের আরেকটি বাস এসে মার্সা পরিবহনের বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি বাসের চালক ও যাত্রীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের মধ্যে নয়জনকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঈগল পরিবহনের যাত্রী বাঁশি মোহন দাশকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত মোহাম্মদ, জয়নাল, মিন্টু দাশ, আনোয়ার, নুরুল আজাদ, তাহের, টিপু চৌধুরী এবং শিরীন আক্তার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সামিয়া রওশন নিশ্চিত করেছেন।
মার্সা পরিবহনের যাত্রী মোহাম্মদ বাহার দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় খড়ের স্তূপ থেকে অনবরত ধোঁয়া বের হচ্ছিল, যার কারণে সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এতে মার্সা বাসের চালক হঠাৎ ব্রেক কষলে বিপরীত দিক থেকে আসা ঈগল পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মূলত অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাশেষ বড়ুয়া দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বাস থেকে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে পানি ছিটিয়ে খড়ের স্তূপের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসগুলো জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর জলুয়ার দিঘী পাড় এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পটিয়া থানা ও হাইওয়ে পুলিশের দুটি দল যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে বেলা ১টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এদিকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। নিহত বাঁশি মোহন দাশের মরদেহের সামনে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাঁশি মোহন দাশ চট্টগ্রাম শহর থেকে লোহাগাড়ার পুটিভিলা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
