মিরসরাইয়ে পাহাড় ধসে প্রাণহানি: ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পাহাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় পাহাড় ধসে জামশেদ আলম নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। তবে পাহাড় কাটার মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এবং নিহত জামশেদ আলমের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আকবরনগর ত্রিপুরা পাড়ার আলাউদ্দিন খোলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ৪৩ বছর বয়সী জামশেদ আলম পেশায় মূলত একজন বাবুর্চি ছিলেন। তিনি অলিনগর এলাকার খানসাব বাড়ির মৃত আলী আকবর প্রকাশ খানসাবের বড় ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনের সময় চাপা পড়ে শ্রমিক মারা গেলেও এর নির্দেশদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। শুধু আকবরনগর নয়, করেরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল মোস্তফা, করেরহাট ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হাছান, বারইয়ারহাট কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল ইসলাম বাবু, আওয়ামী লীগ নেতা মিয়া সওদাগর এবং যুবলীগ নেতা নাজিম ও জিয়াসহ বেশ কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত কয়েক মাস ধরে পাহাড় কেটে এই বালু উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলন করা বালু করেরহাট গনিয়াতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার পশ্চিম পাশের জমিতে মজুত করে বিক্রি করা হচ্ছে।

জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে পাহাড়ের মাটি কাটার সময় হঠাৎ পাহাড় ধসে পড়ে তিন শ্রমিক চাপা পড়েন। এ সময় উপস্থিত অন্য শ্রমিকরা দ্রুত মাটি সরিয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে গেলে দেখতে পান জামশেদ আলম মারা গেছেন। জীবিত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অন্য দুই শ্রমিককে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে বিএনপি, কৃষক দল ও ছাত্রদলের নেতারা থানা-পুলিশ, প্রশাসন ও কিছু অসাধু সাংবাদিককে মাসোহারা দিয়ে পাহাড় কেটে বালু ও মাটি বিক্রি করে আসছেন। মাটি বহনে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের কারণে সড়ক ভেঙে গিয়ে তা জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে পাহাড়ে মাটি কাটা ও বালু পরিবহনের অভিযোগটি সত্য নয়। মাটি কাটার ক্ষেত্রে পুলিশ কোনো প্রকার মাসোহারা নেয়, এমন প্রমাণ দিতে পারলে অভিযোগকারীকে তা নিয়ে আসার আহ্বান জানান কাজী নাজমুল হক।

অন্যদিকে, মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার জানান, তিনি ওই এলাকায় একবার অভিযান পরিচালনা করে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত শ্যালো মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে না পাওয়ায় সে সময় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি বলে সোমাইয়া আক্তার উল্লেখ করেন।