মহেশখালীতে সড়কে প্রাণ গেল শিশুর, গাছচাপায় যুবকের মৃত্যু


কক্সবাজারের মহেশখালীতে একই দিনে তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে উপজেলার কালারমারছড়া, হোয়ানক ও শাপলাপুর ইউনিয়নে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কালারমারছড়া ইউনিয়নে, যেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাপায় প্রাণ হারিয়েছে রোজা রাখা সাত বছর বয়সী শিশু আয়েশা ছিদ্দিকী। একই দিনে হোয়ানক ইউনিয়নে আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনা এবং শাপলাপুর ইউনিয়নে গাছ কাটতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনীপাড়া এলাকায় একটি বেপরোয়া গতির সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা শিশু আয়েশা ছিদ্দিকীকে গাড়িটি চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে শিশুটির শরীর থেকে একটি পা ঘটনাস্থলেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় আয়েশা ছিদ্দিকীকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিকেল তিনটার দিকে হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আয়েশা ছিদ্দিকী কালারমারছড়া ইউনিয়নের চিকনীপাড়া এলাকার নুরুল হকের মেয়ে। এই সিএনজি দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, শাপলাপুর ইউনিয়নের বারিয়াপাড়া এলাকায় গাছ কাটতে গিয়ে আব্দুল কাইয়ুম নামের এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গাছ কাটার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছটি আব্দুল কাইয়ুমের ওপর পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুল কাইয়ুম ওই এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মিঞা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুল কাইয়ুম অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন যুবক ছিলেন এবং দিনমজুরের কাজ করে পরিবার চালাতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে।

এদিকে, একই দিন হোয়ানক ইউনিয়নের কালালিয়া কাটা এলাকায় পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় আরও তিনজন আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না; এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহও বেপরোয়া গতি ও অসচেতনভাবে গাড়ি চালানোর কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সার্বিক বিষয়ে পরিবহন বিশ্লেষক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয় সড়কগুলোতে নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচল রোধে কঠোর নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে দুর্ঘটনা কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণ কঠিন বলে প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন।