ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে মিরসরাই


একপাশে সবুজে মোড়ানো পাহাড়, অন্যপাশে বিশাল বঙ্গোপসাগর আর পাশ ঘেঁষে বয়ে চলা নদী—প্রকৃতির এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। এবারের ঈদের টানা ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে পর্যটকদের বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত এই উপজেলার প্রায় দেড় ডজন পর্যটন স্পট।

পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়া ঝরনার জল, আঁকাবাঁকা হ্রদ আর সমুদ্রসৈকতে নৌকার ছোটাছুটির দৃশ্য যে কোনো পর্যটককে নিমেষেই মুগ্ধ করবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে পাহাড়ের কোলে বন্য প্রাণীর আনাগোনা আর পশ্চিমে সাগরের গর্জন—সব মিলিয়ে মিরসরাই যেন প্রকৃতির এক বিশাল ক্যানভাস।

মহামায়া লেক: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ

মিরসরাইয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ মহামায়া লেক। দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এর বিস্তৃতি। টলটলে জলের বুকে কায়াকিং করা বা নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা শীতল ঝরনায় গা ভেজানোর সুযোগ রয়েছে এখানে। রাতে তাঁবু খাটিয়ে ক্যাম্পিং করার রোমাঞ্চকর সুবিধাও মিলবে।

মহামায়া ইকোপার্কের দায়িত্বে থাকা ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার তসলিম উদ্দিন তৌহিদ জানিয়েছেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে তারা আশাবাদী এবং সে অনুযায়ী সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।

খৈয়াছড়া ও অন্যান্য ঝরনার জলতরঙ্গ

যাঁরা রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলো হতে পারে সেরা গন্তব্য। রূপসী, সোনাইছড়ি, নাপিত্তাছড়া, বোয়ালিয়া এবং বিশেষ করে খৈয়াছড়া ঝরনার সৌন্দর্য বর্ণনাতীত। পাহাড়ের সবুজ চাদর ভেদ করে ঝুম ঝুম শব্দে নেমে আসা জলের ধারায় গা ভিজিয়ে যান্ত্রিক জীবনের সব অবসাদ ধুয়ে ফেলা যায়। অনেকেই তো ভরা পূর্ণিমায় চাঁদের আলোয় ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পাহাড়ের পাদদেশে তাঁবু টাঙিয়ে রাত কাটিয়ে দেন।

সৈকতের বুকে আছড়ে পড়া ঢেউ

মিরসরাইয়ে শুধু পাহাড় নয়, সাগরের বিশালতাও উপভোগ করা যায়। ডোমখালী সমুদ্রসৈকত এবং মিরসরাই শিল্পনগর সমুদ্রসৈকত এখন ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য। সাহেরখালী ইউনিয়নের ডোমখালী থেকে গজারিয়া পর্যন্ত বাঁধ ঘেঁষে জেগে ওঠা চর আর সাগরের মোহনা এক দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর ঘেঁষে নির্মাণ করা সুপার ডাইক ও শিল্পনগর সৈকতে জোয়ার-ভাটার খেলা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো মানুষ।

আরশিনগর ফিউচার পার্ক ও হিলসডেল মাল্টি ফার্ম

পারিবারিক বিনোদনের জন্য সোনাপাহাড় এলাকার আরশিনগর ফিউচার পার্ক একটি চমৎকার জায়গা। ২২ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে রয়েছে কৃত্রিম ঝরনা, স্পিডবোট, কিডস জোন এবং রাত্রিযাপনের জন্য আধুনিক কটেজ।

অন্যদিকে করেরহাটের অলিনগরে রয়েছে হিলসডেল মাল্টি ফার্ম ও মধুরিমা রিসোর্ট। প্রায় চল্লিশ হাজার গাছ দিয়ে সাজানো এই খামারের প্রধান আকর্ষণ মায়াবী হরিণ। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা এই হরিণগুলোর বিচরণ দেখতে দর্শনার্থীরা নিয়মিত ভিড় জমান।

মুহুরীর চরে আলো-আঁধারির খেলা

প্রকৃতির আরেক অপরূপ নাম মুহুরী প্রজেক্ট। পশ্চিমে জেলেদের মৎস্য আহরণ আর পূর্বে মনকাড়ানো প্রকৃতি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ। ডিঙি নৌকায় কিছুটা পথ এগোলেই দেখা মিলবে সাদা বক আর অতিথি পাখির মেলা। চিকচিকে বালিতে রোদ আর জলের খেলা ক্যামেরাবন্দি করার জন্য এর চেয়ে আদর্শ জায়গা আর হতেই পারে না।