
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালীর সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আপনারা বাঁশখালীর ১১২টি ভোটকেন্দ্রে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন এবং পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে আপনারা দুর্দান্তভাবে কাজ করেছেন উল্লেখ করে মাওলানা জহিরুল ইসলাম বাঁশখালীর উন্নয়নে সাংবাদিকদের সুপরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকেলে বাঁশখালী মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের হলরুমে বাঁশখালীতে কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তাঁর আসনের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন এবং ৭০০ পিস শাড়ি উপহার দিয়েছেন। শাড়ি এবং টাকা বাঁশখালী পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে প্রশাসনের সহযোগিতায় যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
সাবেক মন্ত্রীর পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করে একটি অ্যামাউন্টের কথা বলেছিলেন জানিয়ে মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, তাড়াহুড়োর কারণে তাৎক্ষণিক এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করতে না পারায় মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা তাঁকে তাঁর মতো করে দিয়ে দিতে বলেছেন এবং ভবিষ্যতে সমন্বয় করার কথা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সহযোগিতা পেয়েছেন জানিয়ে মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, গত নির্বাচনে তিনি প্রতিপক্ষ হলেও তাঁর পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাওয়া গেছে। যদিও তাঁর পক্ষ হয়ে কেউ কেউ খারাপ ভাষায় কথা বলেছিল, সে কারণে আন্তরিকতার সঙ্গেই নির্বাচিত হওয়ার পর মাওলানা জহিরুল ইসলাম তাঁর বাসায় গিয়েছেন। মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার বাবা মন্ত্রী থাকাকালীন মাওলানা জহিরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং তিনি যখন সরকারি পদে ছিলেন না, তখন জহিরুল ইসলাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর জহিরুল ইসলাম নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েছেন। এই কৃতজ্ঞতাবোধের কারণে তাঁর ছেলের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং সরকারি উন্নয়নকাজে উদারতা দেখিয়ে তিনি মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
মাওলানা জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি চেষ্টা করবেন বাঁশখালীর মানুষকে দেওয়া ওয়াদাগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করতে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে তাঁকে একটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাঁশখালীতে চলমান কাজের অগ্রগতির জন্য তিনি ঈদের পর ঠিকাদারদের নিয়ে মিটিং করবেন এবং এরপর তাঁর সঙ্গে ঠিকাদারদের নিয়মিত যোগাযোগ হবে। বাঁশখালীর কোনো কাজের জন্য যদি প্রাক্কলনগত কোনো লোকসান থাকে, সেখানে তিনি ভর্তুকি দেওয়ার চেষ্টা করবেন, যাতে ঠিকাদারের লোকসান না হয়। লাভ থাকলে ঠিকাদারই তা ভোগ করবেন জানিয়ে মাওলানা জহিরুল ইসলাম দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বাঁশখালীর কাজ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার টেন্ডার হতে দেবেন না।
বাঁশখালীতে অনেক উন্নয়ন হলেও তা অনলাইনে বা পত্রিকায় সেভাবে আসেনি বলে জাতি তা জানতে পারেনি। তাই প্রশাসনের, শরিক দলের, সরকারি দলের এবং বাঁশখালীর সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সহযোগিতাও একান্ত প্রয়োজন বলে মাওলানা জহিরুল ইসলাম মনে করেন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক বেলাল উদ্দিন প্রশ্ন করেন, বাঁশখালীতে বর্তমানে মেগা প্রকল্প অর্থাৎ উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজে ১৯টি সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, ফলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না এবং লবণাক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য এমপির তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? সাংবাদিক বেলাল উদ্দিনের এমন প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে বাঁশখালীতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এলে তাঁকে নিয়ে তিনি বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করবেন। আর তিনি না এলে এমপি নিজেই পরিদর্শন করবেন। মোদ্দাকথা, বেড়িবাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম হতে দেওয়া হবে না বলে মাওলানা জহিরুল ইসলাম আশ্বস্ত করেন।
উক্ত মতবিনিময় ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল, মাওলানা মহিউদ্দিন, উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক জিএম সাইফুল ইসলামসহ বাঁশখালীতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
