সাতকানিয়ায় মুখোশধারীদের হামলায় আহত যুবকের ১৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু


চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের বর্বরোচিত হামলায় আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হামলার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত ওই যুবকের নাম মিজানুর রহমান (২৬)। তিনি সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাতিয়ারকুল এলাকার মৃত মাওলানা আবদুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে মিজানুর রহমান তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে যান। রাতের দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে সোনাকানিয়া ইউনিয়নের গারাংগিয়া গ্রামের হাতিয়ারপুল এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

পরে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ইউনিয়ন বোর্ড অফিসের দক্ষিণ পাশের সড়কে মিজানুর রহমানের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকার খবর পান স্বজনরা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য মিজানুর রহমানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত মিজানুর রহমানের চাচাতো ভাই মাস্টার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করতেন এবং তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। সোনাকানিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মহিউদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি মঞ্জুরুল হক নিশ্চিত করেছেন।