
ইরানের পাল্টা হুমকির পর পাঁচ দিনের জন্য দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আজ সোমবার (২৩ মার্চ) ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লেখেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমাধানের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও লেখেন, এই গভীর, বিস্তারিত ও গঠনমূলক আলোচনার মেজাজ ও সুর বিবেচনা করে তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, এই আলোচনা সপ্তাহজুড়ে চলবে, তবে হামলা না করার এই সিদ্ধান্ত চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের সরাসরি বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ওই সূত্র দাবি করেছে, ইরান তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছু হটেছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানালেও সূত্রটি এ ধরনের কোনো যোগাযোগের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে আলাদা কোনো সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশ সময় গতকাল রোববার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলে, যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে, বিশেষ করে যেসব জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন মালিকানা রয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে মাইন স্থাপনেরও হুঁশিয়ারি দেয় তেহরান।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিটি অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
