
টানা সাত দিনের ঈদের লম্বা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। ঈদের দিন দুপুর থেকেই উপজেলার প্রায় ১৮টি দর্শনীয় স্থানে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে প্রকৃতির টানে ছুটে আসছেন নানা বয়সী মানুষ।
মিরসরাইয়ের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে— মুহুরী প্রজেক্ট, ডোমখালী সমুদ্রসৈকত, শিল্পজোন বসুন্ধরা পয়েন্ট সমুদ্রসৈকত, আরশীনগর ফিউচার পার্ক, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া সেচ প্রকল্প ও হ্রদ, খৈয়াছড়া ঝরনা, রূপসী ঝরনা, বাওয়াছড়া প্রকল্প, বোয়ালিয়া ঝরনা, মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশের উপকূলীয় বন, হিলসডেল মাল্টি ফার্ম অ্যান্ড মধুরিমা রিসোর্ট এবং মেলখুম ট্রেইল।
কক্সবাজার বা সিলেটের মতো না হলেও এখানকার সবুজ পরিবেশ, নির্মল হ্রদ, মনোরম ঝরনা ও সমুদ্রসৈকত প্রকৃতিপ্রেমীদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে।
ঈদের তৃতীয় দিন আরশীনগর ফিউচার পার্কে গিয়ে সব বয়সী মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। সেখানে শিশুরা বিভিন্ন রাইডে চড়ার পাশাপাশি আনন্দে মেতে উঠেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, একশ টাকা মূল্যের টিকিটের মাধ্যমে সেখানে প্রবেশ করতে হয় এবং ঈদের দিন থেকে পাঁচ হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে, মহামায়া ইকোপার্কেও পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা চোখে পড়ে। তবে সেখানে টিকিটের গায়ে ৩০ টাকা লেখা থাকলেও পর্যটকদের কাছ থেকে ৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডোমখালী সমুদ্রসৈকতে ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার চর ও সাগরের উত্তাল ঢেউ দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন। দিনে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি রাতেও তরুণেরা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে সমুদ্রের গর্জন শুনতে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নীলাম্বর লেক হিসেবে পরিচিত বাওয়াছড়া প্রকল্প এবং উপজেলার বিভিন্ন ঝরনাগুলোতেও মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। বর্ষা মৌসুমের মতো পানি না থাকলেও দর্শনার্থীদের আনন্দের কোনো কমতি নেই।
ঢাকার মিরপুর থেকে মিরসরাইয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, একটি বাস ভাড়া করে ২২ জনের একটি দল নিয়ে তারা এসেছেন। নাপিত্তাছড়া ছাড়া এখানকার প্রায় সব ঝরনা তাদের ঘোরা হয়ে গেছে এবং এই ভ্রমণ তাদের খুব ভালো লাগছে।
সার্বিক বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, ঈদের টানা ছুটির কারণে এবার পর্যটক সমাগম বেড়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, ঝরনাগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে দর্শনার্থীদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং গাইড ছাড়া কাউকে সেখানে না যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।
