মিরসরাইয়ে ঈদ বখশিশের নামে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, যাত্রীদের ভোগান্তি


ঈদের ছুটির কয়েক দিন পরও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও গ্রামীণ রুটের যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোতে ঈদ বখশিশের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ঈদের চতুর্থ দিনেও যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ায় চালকদের সঙ্গে বচসার ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মহাসড়কের মিরসরাই অংশে বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ দূরপাল্লা ও আঞ্চলিক বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন, আবার ছুটি শেষে অনেকেই কর্মস্থলে ফিরছেন। কিন্তু এই যাতায়াতের মাঝে সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, যেসব রুটে ১০ টাকা ভাড়া, সেখানে ২০ টাকা বা তারও বেশি আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয় যাত্রী মো. ইকবাল হোসেন অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের কারণে মানুষের যাতায়াত বেশি হলেও ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়া অন্যায়। বাধ্য হয়েই তাদের বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।

উত্তরা বাসের যাত্রী ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঈদের দিন বখশিশ নেওয়া মেনে নেওয়া গেলেও তিন দিন পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় একধরনের চাঁদাবাজির শামিল।

অনেক যাত্রীর অভিযোগ, বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রামের মাদারবাড়ি রুটে চলাচলকারী ‘চয়েস পরিবহন’ ১৩০ টাকার বদলে ১৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে। এছাড়া বাসগুলোর আসন ছোট হওয়ায় বসতেও অনেক কষ্ট হয় বলে যাত্রীরা জানান।

এ বিষয়ে উত্তরা বাসের চালক জসীম উদ্দিন বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীরা খুশি হয়ে পাঁচ-দশ টাকা বাড়িয়ে দিলে সেটি নিতে বলা হয়েছে, কাউকে জোর করা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, মানুষ সবকিছু বেশি দামে কিনতে পারলেও গাড়িভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে দিতে সবার কষ্ট হয়।

মিরসরাই সিএনজি অটোরিকশা চালক সমিতির সভাপতি খানসাব জানান, ঈদ উপলক্ষে হয়তো কেউ কেউ একটু বেশি ভাড়া নিচ্ছেন, তবে বুধবার থেকে আর অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হবে না।

জোরারগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বলেন, যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য পর্যাপ্ত টহল জোরদার রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি বলে তিনি জানান।