ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি আলোচনার দাবি, এশিয়ার বাজারে তেলের বড় দরপতন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি আলোচনার দাবির পর বুধবার এশিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। যদিও ইরানের কর্মকর্তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবুও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতেই এই পতন দেখা যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ৫ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘এখনো’ চলছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত পক্ষগুলো চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধ বন্ধের এই আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।

তবে গত সোমবার তেহরানের একজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার এই দাবিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এখনো পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগের দাবি নাকচ করে জানিয়েছিল, এটি মূলত তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের একটি অপচেষ্টা।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সেখানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে রয়েছে। তিনি তাঁর পুরোনো দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানি নেতারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবেন না বলে একমত হয়েছেন।

মঙ্গলবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। বর্তমান এই দরপতনের পরও তেলের দাম গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগের তুলনায় অনেক বেশি রয়েছে।

চলমান এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি–সংকট তৈরি করেছে। ফলে নিজেদের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব কমাতে বিভিন্ন দেশের সরকার গত কয়েক সপ্তাহে নানা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার হিউস্টনে আয়োজিত জ্বালানিবিষয়ক একটি সম্মেলনে জ্বালানি খাতের জায়ান্ট শেলের প্রধান নির্বাহী ওয়ায়েল সাওয়ান সতর্ক করে বলেন, আগামী এপ্রিলে ইউরোপে ভয়াবহ জ্বালানি–সংকট দেখা দিতে পারে।

শেলের প্রধান নির্বাহী ওয়ায়েল সাওয়ান বলেন, দক্ষিণ এশিয়া প্রথমে এর ধাক্কা খেয়েছে। এরপর তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়েছে। এপ্রিল নাগাদ এটি ইউরোপে প্রকট হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।