দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা


খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দীঘিনালা স্টেশন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাহিন্দ্র ও পিকআপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের এই চিত্র দেখা যায়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কে সিএনজি ও মাহিন্দ্রর নির্ধারিত ভাড়া ৭০ থেকে ৮০ টাকা হলেও চালকরা এখন ১৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। গাড়ি রিজার্ভের ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এছাড়া পিকআপেও ৭০ টাকার ভাড়া ৮০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলার কবাখালী এলাকার বাসিন্দা মো. আশিক জানান, ঈদের ছুটি শেষে তিনি চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ফিরছেন। ৮০ টাকার ভাড়া তাঁর কাছ থেকে ১৫০ টাকা চাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়াতেই তাঁকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করে উপজেলার থানাবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান বলেন, তাঁর কাছ থেকেও খাগড়াছড়ি যাওয়ার জন্য ১৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সাধারণ যাত্রীরা এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে যানবাহন চালকরা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে তাঁরা স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে পারছেন না। তেল সংগ্রহ করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বিধায় তাঁরা ভাড়া কিছুটা বাড়িয়ে নিচ্ছেন।

দীঘিনালা মাহিন্দ্র সমিতির লাইনম্যান বাবুধন চাকমা বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তবে মাহিন্দ্র ও সিএনজি চালকেরা সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না বলে তাঁরা বাধ্য হয়ে কিছুটা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ বিষয়ে সিএনজি মালিক সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহন মালিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।