ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান শেখ মামুন খালেদ ৫ দিনের রিমান্ডে


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন শেখ মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এর আগে বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে শেখ মামুন খালেদকে আটক করে ডিবি।

আদালতে দেওয়া রিমান্ড আবেদনে এসআই কফিল উদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টা ২০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই তিনি মারা যান।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, এই হত্যার ঘটনায় দেলোয়ার হোসেনের পরিবার মামলা দায়ের করে। মামলার ঘটনার সঙ্গে শেখ মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

শেখ মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। সে সময় দুদক এই দম্পতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল। এছাড়া একটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা যায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।