
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনি ও সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চকরিয়া বিমানবন্দরস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।
সকাল ১০টার দিকে চকরিয়া উপজেলা পরিষদস্থ মগবাজার কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন ইউএনও শাহীন দেলোয়ার ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন। এ সময় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্কাউটস ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
দুপুর ১২টায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভার শুরুতে তাঁর নেতৃত্বেই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুপায়ন দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হাজী আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম, জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল আমিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. জায়নুল আবেদিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফ উদ্দিন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদের প্রাইম, চকরিয়া পৌর বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন, মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম সবুজ এবং সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল মাহমুদ।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে আলোচনা সভা শেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সবশেষে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এসব কর্মসূচিতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
