সাতকানিয়ায় ঈদের ৬ দিন পরও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া অংশে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের কাছে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঈদুল ফিতরের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও ‘ঈদ বকশিশ’-এর অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে যাত্রীদের ক্ষোভ ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মহাসড়কের কেরানীহাট থেকে আমিরাবাদ ও আশপাশের আঞ্চলিক রুট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের ব্যাপক চাপ রয়েছে। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে যেমন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ছুটছেন, তেমনি অনেকেই কর্মস্থলে ফিরছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, এই সুযোগেই একধরনের অঘোষিত ভাড়া নৈরাজ্য চালু করেছেন সিএনজিচালকেরা।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে সাতকানিয়া অংশে। নির্ধারিত ভাড়াকে উপেক্ষা করে যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কেরানীহাট থেকে আমিরাবাদ রুটে যেখানে ভাড়া ৩০ টাকা, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ৪০ টাকা। একইভাবে কেরানীহাট-দোহাজারী রুটে ২০ টাকার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা। রিজার্ভ ভাড়ার ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চিত্র আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী যাত্রী রশীদ ইমাম জানান, ঈদের ছুটিতে গ্রামে মানুষের চাপ বেশি থাকায় সিএনজিচালকেরা সুযোগ নিচ্ছেন। ঈদের বকশিশের কথা বলে জোর করে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো যাত্রীদের অপমান ও নাজেহাল করা হচ্ছে বিধায় বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিচ্ছেন বলে রশীদ ইমাম অভিযোগ করেন।

কেরানীহাট ট্রাফিক মোড়ে গিন্নী আক্তার নামের আরেক যাত্রী জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কেরানীহাট থেকে পদুয়া যেতে একটি অটোরিকশা রিজার্ভ করতে গেলে তাঁর কাছে ১০০ টাকার জায়গায় ২০০ টাকা দাবি করা হয়। কম দিতে চাইলে চালক যেতে রাজি হননি। গিন্নী আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঈদের দিন বকশিশ নেওয়া এক কথা, কিন্তু ছয় দিন পরও এভাবে ভাড়া বাড়ানো সরাসরি চাঁদাবাজি।

একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, সিএনজিচালকদের এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তাঁরা প্রকাশ্যেই যাত্রীদের জিম্মি করে রাখছেন। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি সিএনজিচালক কামাল। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে এবং আরও কয়েক দিন গেলে ভাড়া স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে চালক কামাল জানান।

এ বিষয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পুলিশ এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নিচ্ছে। ঈদে যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন, সেজন্য টহল জোরদার রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আসেনি বলে ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী নিশ্চিত করেন।