মগনামা ঘাটে চরম ঝুঁকি, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ট্র্যাজেডির আশঙ্কা


কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম পেকুয়া উপজেলার সমুদ্রতীরের জনপদ মগনামা ঘাট। নিরাপদ জেটি বা সিঁড়ি না থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌযানে ওঠানামা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে মগনামা ঘাটে যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন কুতুবদিয়া দ্বীপের মানুষ। নিরাপদ জেটি ব্যবস্থা নিশ্চিতে দ্রুত সময়ে টেকসই পদক্ষেপ না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা।

সম্প্রতি পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় মগনামা ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে আসা লোকজনকে কুতুবদিয়ায় যেতে এই ফেরিঘাট থেকে নৌযানে উঠতে হয়। কিন্তু ঘাটে নৌযানে ওঠানামার জন্য নিরাপদ কোনো অবকাঠামো নেই। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে যাত্রীদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌযানে উঠতে হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়ানক। ঘাটের ভাঙাচোরা সিঁড়ি থেকে নৌযানের মাঝখানে দুটি ছোট আকারের কাঠের তক্তার ওপর ভর করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রীরা সি-ট্রাক ও অন্যান্য নৌযানে উঠছেন।

মগনামা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও সাংবাদিক এম গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মগনামা থেকে কুতুবদিয়া এবং কুতুবদিয়া থেকে মগনামা ফেরিঘাটে হাজারো মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। ওঠানামার সময় যাত্রীদের পা পিছলে গেলেই নিশ্চিত বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। এম গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ট্র্যাজেডির মতো বড় কোনো দুর্ঘটনা না হওয়া পর্যন্ত হয়তো কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও মগনামা ফেরিঘাটের সংস্কার এবং যাত্রী ওঠানামার টেকসই সিঁড়ি নির্মাণে প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জানা যায়, ১৯৯০ সালের দিকে কুতুবদিয়ায় যাত্রী পারাপারের জন্য পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে এই জেটিঘাট স্থাপন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০০৪ সালে চ্যানেলের চরে জেগে ওঠা অংশে জেটিঘাটটির বাড়তি অংশ সম্প্রসারণ করা হয়। প্রায় ২১ বছর ধরে এই জেটিঘাট দিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলার তিন লাখ মানুষ নদী পারাপার হচ্ছেন। প্রতিবছর এটি ইজারা দিয়ে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে সরকার। গত ১৪৩১ বঙ্গাব্দে মগনামা বড়ঘোপ ঘাট ২ কোটি ৬৫ লাখ, দরবার ঘাট ১ কোটি ৫০ লাখ ও মগনামা জেটিঘাট ৭০ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়। চলতি বছরে তা খাস কালেকশনে রয়েছে। এত রাজস্ব আয় হলেও জেটিঘাটটি বরাবরই উপেক্ষিত। জেটিঘাটের প্ল্যাটফর্ম ও মূল পথের আটটি অংশে রেলিং ভেঙে বিলীন হয়েছে এবং প্ল্যাটফর্মের খুঁটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলার সাংবাদিক আবুল কাশেম বলেন, মগনামা ঘাট দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া থেকে সারা দেশে যাতায়াতের সহজ পথ। কিন্তু ঘাটের বেহাল দশা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। প্ল্যাটফর্মের খুঁটির খুব খারাপ অবস্থা, যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবুল কাশেম আরও জানান, রেলিং ধসে পড়ায় যাত্রীদের নদীতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং ঘাট ব্যবহারে নারী-শিশুদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি জেটিঘাট দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

তবে আশার কথা শুনিয়েছেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী। তিনি জানান, মগনামা ফেরিঘাট দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকায় জনগণের নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘাটের ভাঙাচোরা সিঁড়িগুলো। এই অবস্থায় একটি আধুনিক মানের জেটি নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ইউনুছ চৌধুরী আরও জানান, এরই অংশ হিসেবে ঈদের পরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মগনামা ফেরিঘাটে জেটি নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সায়েদুজ্জামান সাদেককে এ ব্যাপারে সব ধরনের কাগজপত্র ও সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।