
ঈদের টানা সাত দিনের ছুটিতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবস্থিত ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমেছে। ঈদের ছুটি শেষ হলেও পার্কে ভ্রমণপিপাসুদের আগমন এখনো অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দুপুরে পার্কে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সন্নিকটে প্রাকৃতিক আবহে প্রায় ৯০০ হেক্টর এলাকায় গড়ে তোলা এই পার্কে বর্তমানে ১৯টি বেষ্টনীতে বাঘ, সিংহ, জেব্রা, জলহস্তী, কুমির, ভালুক ও হাতির মতো বিপন্ন প্রাণীসহ ৫২ প্রজাতির ৩৪১টি বন্যপ্রাণী ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে। উন্মুক্তভাবে আছে ১২৩ প্রজাতির এক হাজার ৬৫টি প্রাণী। এর মধ্যে গুইসাপ, সজারু, বাগডাশ, মার্বেল ক্যাট, গোল্ডেন ক্যাট, ফিশিং ক্যাট, খেঁকশিয়াল ও বনরুই উল্লেখযোগ্য।
ঈদের ছুটিতে এসব বন্যপ্রাণী দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দর্শনার্থীরা। কেউ পার্কের গাড়িতে চড়ে, আবার অনেকে হেঁটে হেঁটে পার্কের নান্দনিক পর্যটন স্পট এবং প্রাকৃতিক পরিবেশে বিচরণরত প্রাণী দেখে প্রাণ জুড়াচ্ছেন। সুযোগ বুঝে কমবেশি সবাই বন্যপ্রাণী ও দর্শনীয় স্থানগুলোর ছবি মুঠোফোনে তুলছেন এবং ভিডিওচিত্র ধারণ করছেন।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ঈদুল ফিতরে লম্বা ছুটির কারণে প্রতিবছরের চেয়ে এবারের ঈদের ছুটিতে বিপুল দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে। ৩০ রোজা শেষে খুশির ঈদে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের দর্শনার্থীরা পার্ক ভ্রমণে আসছেন।
সাফারি পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় ৮০ একরের বাঘ ও সিংহ বেষ্টনীতে দর্শনার্থীরা দূর থেকে বাঘ-সিংহের গর্জন শুনছিলেন। এ ছাড়া পার্কের পৃথক বেষ্টনীতে রয়েছে চিত্রা হরিণ, হাতি, অজগর, লেজি বানর, লাম চিতা, হনুমান, উল্লুক, কালো শিয়াল, জলহস্তী, ওয়াইল্ডবিস্ট, মায়া হরিণ, সম্বর হরিণ, প্যারা হরিণ, মিঠাপানির কুমির, লোনাপানির কুমির, ময়ূর, বনমোরগ, বন্য শূকর, তারকা কচ্ছপ ও বানরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী।
পার্কে আসা দর্শনার্থীদের বড় অংশই শিশু। তারা বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি উন্মুক্ত বিচরণ করা হরিণ, খরগোশ ও বানর দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। অনেকের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে বাঘ, সিংহ, জেব্রা ও জলহস্তী। পার্কের সামনের বিশাল মাঠে দর্শনার্থীদের পিকনিক করার জন্য আলাদা জায়গা এবং শিশুদের জন্য খেলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আগে সাফারি পার্কে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ ফি ছিল ৫০ টাকা এবং ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য ৩০ টাকা। কিন্তু পার্কের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রবেশ ফি বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১০০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অনেক দর্শনার্থী এই বর্ধিত ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি অতিরিক্ত দাবি করে তাঁরা আগের মতো প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা ও শিশুদের জন্য ৩০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম জানান, ঈদুল ফিতরের দিন বিকেল থেকে সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের যে আগমন শুরু হয়েছে, তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃতির বৈরী আচরণ না থাকা এবং দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় অন্যান্য বারের তুলনায় এবার দর্শনার্থী অনেক বেশি।
তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পার্কের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি বেষ্টনীতে নিরাপত্তাকর্মীরা সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখছেন। ঈদের দিন থেকে শনিবার (২৮ মার্চ) পর্যন্ত সাত দিনে শিশু-কিশোরসহ লক্ষাধিক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি ইউনিট আগে থেকেই কাজ করছে। পাশাপাশি থানা পুলিশের একটি টহল দলও সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
