
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উপকূলীয় জনপদ বদরখালীতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুরোনো জেটি সংলগ্ন নদীর জেগে ওঠা চর দখল করে চলছে চিংড়ি ঘের তৈরির অসম প্রতিযোগিতা। অভিযোগ উঠেছে, বদরখালী সমবায় সমিতি থেকে মেয়াদভিত্তিক মৎস্য ঘের ইজারা নিয়ে অভিযুক্ত ইজারাদার কৌশলে ঘের লাগোয়া নদীর জেগে ওঠা চর দখলে নিয়ে আয়তন বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর ফলে নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং সমুদ্রের সঙ্গে সংযোগস্থল বদরখালী-মহেশখালী নৌ-চ্যানেলে নাব্যতা সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ অনুযায়ী, বদরখালী পুরোনো জেটিঘাট লাগোয়া নদীর তীরে জেগে ওঠা চর দখলে জড়িত স্থানীয় মাতারবাড়ি পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে জয়নাল আবেদীন। তিনি এর আগে বদরখালী সমবায় সমিতি থেকে মৎস্য চাষের জন্য জেটিঘাটের পাশে একটি ঘের ইজারা নেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চিংড়ি ঘেরের পশ্চিমে নদীতে জেগে ওঠা চর দখলে নিয়ে সম্প্রতি সমিতির নাম ব্যবহার করে নতুন করে মাটির বাঁধ দিয়ে ঘেরের আয়তন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সমিতির ওই ঘেরের পশ্চিমে নদীতে জেগে ওঠা চরটি কক্সবাজার জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। ওই চরের পাশে জেলা পরিষদের পুরোনো জেটিঘাট এখনো প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। এ অবস্থায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জায়গা দখলে নিয়ে সমিতির নামে ঘেরের আয়তন বাড়ানোর ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নানামুখী বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চরের জায়গা দখলের ঘটনায় জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজনের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
দিনেদুপুরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন জেটিঘাটের জায়গা দখলের ঘটনায় পরিবেশ সচেতন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, নদীর তীরে জেগে ওঠা চর এভাবে দখলে নিয়ে অপরিকল্পিত ব্যক্তিগত মৎস্য ঘেরের আয়তন বাড়ানোর ফলে নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে সমুদ্রের সংযোগস্থল বদরখালী-মহেশখালী নৌ-চ্যানেল অচিরেই নাব্যতা সংকটের সম্মুখীন হবে।
তিনি আরও বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব পড়বে পুরো এলাকার ওপর। বিশেষ করে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হবে এবং ধ্বংস হবে জীববৈচিত্র্য। নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে গেলে নৌযানের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় অন্তত ৬০০ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমান্বয়ে হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে বদরখালী সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক (সদস্য) বিকেএম নুরুল কাইছার শনিবার (২৮ মার্চ) রাত আটটার দিকে তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, বদরখালী পুরোনো জেটিঘাট লাগোয়া জেগে ওঠা নতুন চরে বাঁধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বদরখালী সমিতির বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নেয়নি। তাই যাঁরা চর ভরাট করছেন, তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা বাঁধ ভেঙে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে জেলা পরিষদের জায়গা দখলের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বদরখালী সমবায় ও কৃষি উপনিবেশ সমিতির সম্পাদক মঈন উদ্দিন বলেন, ইজারাদার জয়নাল আবেদীন কর্তৃক মৎস্য ঘেরের আয়তন বাড়ানোর বিষয়টি সমিতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট। তিনি মূলত সমিতির সম্পদ বাড়াতেই সহযোগিতা করছেন।
তিনি দাবি করেন, জেটিঘাট লাগোয়া নদীর তীরের যে জায়গাটি বাঁধ দিয়ে ইজারাদার ভরাট করছেন, সেটি সমিতির নামে ২০২২ সালে সরকার থেকে লিজ নেওয়া ২৩০ একর জায়গার ভেতরেই রয়েছে। কাজেই এখানে জেলা পরিষদের জায়গার কোনো অস্তিত্ব নেই।
বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হলে চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব জানান, জেটিঘাট লাগোয়া নদীর তীরে জেগে ওঠা চর জেলা পরিষদের জায়গা হয়ে থাকলে বিষয়টি আগে তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকি করা সমীচীন। এরপরও ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠিয়ে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে এবং জেলা পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে অবৈধ দখলের চেষ্টা থামাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
