
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম বৃদ্ধির জেরে সারা দেশের মতো কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৌশলে তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। মজুত নেই বা সরবরাহ অপ্রতুল—এমন নানা অজুহাতে ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে তেল বিক্রিতে চরম নৈরাজ্য চলছে। তেল নেই—এই অজুহাতে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে জনগণের এমন অভিযোগ ও আপত্তি পেয়ে অবশেষে রোববার (২৯ মার্চ) থেকে অবৈধ মজুতদার, ফিলিং স্টেশন এবং খুচরা তেলের দোকানে অভিযান শুরু করেছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের অংশ হিসেবে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব রোববার বিকেলে চকরিয়া উপজেলা সদরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
এ সময় চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মুদি দোকানে খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রিতে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া এবং ওজনে কারচুপির অপরাধে দুটি দোকানকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৌশলে তেল বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবার ওজনেও কারচুপি করছেন কতিপয় দোকানি। রোববারের প্রথম অভিযানে দুই তেল দোকানিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে রূপায়ন দেব নিশ্চিত করেন। জনস্বার্থে জ্বালানি তেল নিয়ে কারসাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও রূপায়ন দেব হুঁশিয়ারি দেন।
