
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গাছ ও বালুবোঝাই গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদলের দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আহতদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল ও মো. ফারুকের নাম জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে আসা কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে এক হাজার ও বালুবোঝাই ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে এই চাঁদা তোলা হতো। তবে সম্প্রতি তাদের সরিয়ে নুর উদ্দিনসহ কয়েকজন চাঁদা তোলার নিয়ন্ত্রণ নেন। এর জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার চাঁদা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের ওপর আলমগীরের লোকজন হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায় এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরেস্ট অফিস এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ট্রাক ও বালুর গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় এবং মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকেও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। এসব কারণে এলাকায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন আহত হয়েছেন বলে তারা জেনেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
