
ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানিয়েছে।
গবেষণায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন পিছিয়ে আছে, সে বিষয়ে বিশ্লেষকরা পাঁচটি মূল বিষয় চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, প্রযুক্তিগত বনাম কৌশলগত জয়ের ক্ষেত্রে সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছু কৌশলগত বা ট্যাকটিক্যাল আঘাত হানতে পারলেও স্ট্র্যাটেজিক বা রণকৌশলগত দিক থেকে তারা ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক ব্যবস্থা উপড়ে ফেলা, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করা বা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ছিল, তেহরান দৃঢ়তার সঙ্গে তার প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অপ্রতিসম যুদ্ধ চালিয়ে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে; বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং সেটি পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ব্যর্থতা ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। চতুর্থত, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানের পক্ষেই বেশি কাজ করছে। পঞ্চমত, যুদ্ধ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয় একটি প্রচারণামূলক বিজয় দেখাতে হবে, নতুবা কোনো জয় ছাড়াই এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হবে।
তাসনিম নিউজের এই গবেষণায় মোট ৮০টি থিংকট্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ব্রুকিংস, কার্নেগি, সিএফআর, র্যান্ড, সিএসআইএস, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও আটলান্টিক কাউন্সিল। যুক্তরাজ্যের আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চ্যাথাম হাউস, আইআইএসএস, রুসি ও পলিসি এক্সচেঞ্জ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্রুগেল, ইফরি, সিইপিএস, এসআইপিআরআই এবং জার্মান মার্শাল ফান্ড উল্লেখযোগ্য। এশিয়ার ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চীনের সিআইসিআইআর, ভারতের ওআরএফ, জাপানের জেআইআইএ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ও ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এই তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি কানাডার দুটি, অস্ট্রেলিয়ার তিনটি, ল্যাটিন আমেরিকার একটি ও আফ্রিকার তিনটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানও এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত।
এই গবেষণায় ব্রুকিংস, কার্নেগি, চ্যাথাম হাউস, সিএসআইএস, র্যান্ড, এসআইপিআরআই, ইউরেশিয়া গ্রুপ ও হাডসন ইনস্টিটিউটের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনই যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ঠিক সেই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে ইরান।
