
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে সামরিক অভিযানের লক্ষ্য অর্জনের প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অভিযান এখন শেষ পর্যায়ে আছে। হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি জানান, ইরানে কাজ শেষ করতে তাদের আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাতে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে) দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ওই ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে তিনি জানাচ্ছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন প্রায় কাছাকাছি। গত চার সপ্তাহে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত, চূড়ান্ত ও অপ্রতিরোধ্য জয় এনে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির বেশিরভাগ নেতা মারা গেছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা নাটকীয়ভাবে খর্ব হয়েছে জানিয়ে আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটির ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হেনে তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।
ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন যে ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির কাছাকাছি ছিল, যদিও এর সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান অবশ্য একাধিকবার জানিয়েছিল, তারা কোনো ধরনের পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে না। ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে ট্রাম্প বলেন, ওই চুক্তি থেকে তিনি বের না হলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া মিত্র দেশ বিশেষ করে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে অসাধারণ কাজের জন্য ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই আবার খুলে যাবে। তবে যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন, তাদের নিজেদেরই এই প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এই ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশন চাঁদে সফলভাবে উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এছাড়া ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে দ্রুত আটক করতে পারায় মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে।
নিজের প্রথম মেয়াদে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার কথাও স্মরণ করেন ট্রাম্প। সোলাইমানিকে ‘রাস্তার ধারে পেতে রাখা বোমার হোতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সোলাইমানি বেঁচে থাকলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত, তবে যুক্তরাষ্ট্রই বড় জয় পেত। গত ৪৭ বছরে ইরানের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ তালিকা তুলে ধরে দেশটির নেতাদের ‘ঠগ’ ও ‘খুনি’ আখ্যা দেন তিনি এবং যুদ্ধের আগে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই যুদ্ধকে একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা এখন আর ইরানের হামলার বা পরমাণু হুমকিতে নেই; যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে।
