
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা ও ধরপাকড়ের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন ১১ জন বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তারা চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বৈধ কাগজপত্র না থাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের আটক করে। বেশ কিছুদিন কারাগারে বন্দি থাকার পর আউটপাস নিয়ে তারা দেশে ফিরতে বাধ্য হন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের জরুরি সহায়তার জন্য ব্র্যাকের সার্ভিস বুথে পাঠায়। সেখানে ৯ জনকে তাৎক্ষণিক অর্থ, খাবার ও পানিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
বিদেশফেরত এসব প্রবাসীর চোখেমুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা। তাদেরই একজন চট্টগ্রামের মোহাম্মাদ তসলিম উদ্দীন আক্ষেপ করে জানান, “আমাদের বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না। কিন্তু জীবন-জীবিকার সন্ধানে তো কাজের জন্য বের হতেই হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে তারা আমাদের আটক করে জেল থেকে দেশে ফেরত পাঠায়।”
দেশে ফেরা আরেক প্রবাসী আব্দুস সাত্তার জানান, তিনি দুবাইয়ের একটি কারাগারে ১০ দিন বন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, “জেলে ঠিকমতো তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো না। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিংবা জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থাও করত না কর্তৃপক্ষ। একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে অনেককে রাখা হতো।”
দেশে ফেরা এই প্রবাসীরা আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অনেকেরই সেখানে কোনো কাজ নেই। অনেককে চুক্তিতে নিয়ে কিছুদিন কাজ দিলেও তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র জব্দ করে রাখা হয়। পরে কোম্পানি বা মালিকপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দিয়ে প্রতারণা করে সটকে পড়ে। একদিকে দেশে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে বৈধ কাগজ ছাড়া বিদেশে কাজ না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় প্রবাসীদের। কাজের সন্ধানে বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়ে তটস্থ থাকতে হয়। অনেকেই ধরা পড়ে জেলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আর বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, বিদেশফেরত এমন অভিবাসীদের সহায়তায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৫১ জন বিদেশফেরত প্রবাসীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
