দখলমুক্ত হলো প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত চেচুরিয়া খাল, বাঁশখালীতে স্বস্তি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে টানা কয়েক দিনের ধারাবাহিক অভিযানের পর ঐতিহাসিক চেচুরিয়া আদর্শগ্রাম খালটি অবশেষে দখলমুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধ বাঁধ অপসারণের ফলে দীর্ঘদিনের বাধাগ্রস্ত জলপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় জনজীবন, কৃষি ও পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৭৭-৭৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা এই খালটি একসময় এলাকার কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ, খাল ভরাট এবং অপরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে শফিকুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে খালের ওপর অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও এস্ক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন জানান, পুরো খালজুড়ে শতাধিক ছোট-বড় অবৈধ বাঁধ ও কৃত্রিম প্লটের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসব স্থানে ঝাঁক বসিয়ে মাছ চাষের অপচেষ্টা চলছিল, যা খালের প্রাকৃতিক প্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে তুলেছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় গত ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে খালের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে উপজেলা প্রশাসন। এর ফলে খালের পানিপ্রবাহ আবারও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে খালটি দখলমুক্ত করার যে দাবি স্থানীয়রা জানিয়ে আসছিলেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগে তা বাস্তবায়িত হলো।

খাল উদ্ধারের এই ঘটনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন পরিবেশবিদ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক খাল ও জলাধার সংরক্ষণ কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত মাছ চাষ জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো গুরুতর সমস্যার জন্ম দেয়।