
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কঠোর আঘাত হেনে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে এরই মধ্যে হামলা জোরদার হয়েছে।
জানা গেছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে শতাব্দী পুরোনো একটি চিকিৎসা গবেষণাকেন্দ্র, একটি সেতু এবং দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এছাড়া ইরানের ইস্পাহান নগরীর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছ থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে বিমান হামলায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত কারাজ শহরেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে একাধিক সূত্র বিবিসিকে এ খবর নিশ্চিত করেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তাঁর বাসার ওপর দিয়ে জঙ্গি বিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনা গেছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমও আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরে হামলার খবর প্রকাশ করেছে।
আলবোরজ প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক উপকর্মকর্তা জানান, কারাজের কাছে একটি সেতুতে বিমান হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা একটি বড় পরিসরের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যে যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকেই গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে এর নাটকীয় প্রভাব পড়বে।”
জ্বালানি তেল এবং খাবারের বাড়তে থাকা দামের কথা উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, “মানুষ এরই মধ্যে বাড়তি দামের সঙ্গে সংগ্রাম করছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্বের গরিব ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের হাঁসফাঁস অবস্থা হবে।”
বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনাকে সম্মান দেখানো এবং সুরক্ষিত রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি বার্তা দিয়ে গুতেরেস বলেন, “আমার বার্তা স্পষ্ট, পরিস্থিতি এরই মধ্যে মানুষের চরম দুর্ভোগ এবং বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক পরিণতির দিকে যেতে বসেছে। যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই সময়।” পাশাপাশি ইরানকেও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
