
চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ১২ বছরের এক শিশুসহ চারজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বাকলিয়া থানার মিয়া খান নগর ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে।
এই ঘটনায় আহত চারজন হলেন মো. হাসান, জসিম, ইসমাইল মিয়া ও ১২ বছরের শিশু ফাহিম। তাঁরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত মো. হাসান, জসিম, ইসমাইল মিয়া ও ফাহিমের পায়ে ছররা গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী আবদুস সোবাহান ও শওকতের অনুসারীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। সন্ত্রাসী মোরশেদ খান নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং চট্টগ্রাম নগর পুলিশের করা ৩০০ দুষ্কৃতকারীর তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে সন্ত্রাসীরা আকস্মিকভাবে তাদের প্রতিপক্ষ আবদুস সোবাহান ও শওকতের অনুসারীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। তবে এতে প্রতিপক্ষের কেউ আহত না হলেও সাধারণ পথচারী, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও ময়দার মিলের কর্মচারী আহত হন।
পুলিশ আরও জানায়, নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মোরশেদ খান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় ফিরে আসেন। তিনি এলাকায় ফেরার পর তাঁর প্রতিপক্ষ আবদুস সোবাহান ও শওকত তাঁকে মারধর করে এলাকাছাড়া করেছিলেন। সেই ঘটনার জেরে মোরশেদ খানের অনুসারীরা শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের ওপর এই সশস্ত্র হামলা চালান।
এ বিষয়ে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, পূর্ববিরোধের জেরে সন্ত্রাসী মোরশেদ খানের অনুসারীরা গুলি ছুড়লে সাধারণ পথচারীরা আহত হন। এই ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোরশেদ খানের পাঁচ অনুসারীকে আটক করেছে। ঘটনায় জড়িত অস্ত্রধারী ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
