
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকের পরপরই তাঁকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম এই আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধানমন্ডিতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী নামের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন।
যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম আরও জানান, সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কী কী মামলা রয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
জানা গেছে, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রংপুরে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে এই হত্যা মামলা করা হয়। মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন রংপুর শহরের পূর্ব গনেশপুর এলাকার নিহত মুসলিম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার।
রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। পরবর্তী সময়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রথম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে টানা চারবার তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন তিনি। ওই বছরের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ এবং ১০ জানুয়ারি শপথ নেন সংসদ সদস্যরা। ওই দিনই আওয়ামী লীগ তাদের বৈঠকে স্পিকার পদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নির্বাচিত করে।
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ‘দ্য রাইট টু লাইফ’ বা মানুষের জীবনের অধিকার, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক আইন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে জনস্বার্থ, মানবাধিকার ও সংবিধানবিষয়ক বিভিন্ন মামলা পরিচালনা করেছেন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন মামলার প্যানেল আইনজীবী ছিলেন তিনি।
