মে মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত সরকারের


দামের সমন্বয় করে প্রয়োজনে আগামী মে মাস থেকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির চিন্তা করবে সরকার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) শওকতুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ কথা জানান।

সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম তাঁর প্রশ্নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়বে কি না, তা জানতে চান। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি নির্দিষ্ট আইন আছে। সেই আইন অনুসারে প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করা হয়। গত মাসে সমন্বয় করে সরকার দাম বাড়ায়নি। আগামী মাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে কাজ চলছে। যদি সমন্বয় করে দেখা যায়, দাম বৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করা হবে।

এর আগে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য, প্রিমিয়াম ও ফ্রেট রেটে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকার সম্ভাব্য সব উৎস অন্বেষণ করে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে এবং দেশে বর্তমানে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

মজুতের চিত্র তুলে ধরে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে জানান, দেশে বর্তমানে ডিজেল মজুত আছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে দেশে আসবে। অকটেন মজুত রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ টন এবং ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পৌঁছাবে। এ ছাড়া পেট্রল মজুত আছে ১৬ হাজার টন এবং চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই আরও ৩৬ হাজার টন দেশে আসবে।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে তেলের দাম ৫০ শতাংশ বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপালও ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো দাম বাড়ানো হয়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও দেশের শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিলে দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। এ ছাড়া কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন ডিজেলপ্রাপ্তি নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, এ জন্য জেলা পর্যায়ে একটি মনিটরিং দলও গঠন করা হয়েছে।

দেশে খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে গত ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং মোট ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার ও পেট্রল ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার। অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।