
চৌধুরী মুহাম্মদ আবু তৈয়ব কক্সবাজারের চকরিয়া জনপদে শিক্ষাবিস্তারের একটি আদর্শের নাম। তিনি ছিলেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রূপকার। একই সঙ্গে তিনি এতদঞ্চলের অগণিত মানুষ গড়ার একজন আদর্শবান কারিগর ছিলেন। শিক্ষার প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভালোবাসা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কীভাবে জনপ্রিয়তার অনন্য উচ্চতায় নেওয়া যায় এবং একজন শিক্ষার্থীকে কীভাবে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয়—এসব অসাধারণ গুণের অধিকারী ছিলেন চৌধুরী মুহাম্মদ আবু তৈয়ব।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে নিজের গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিশলয় আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে মানুষ গড়ার কারিগর এই শিক্ষাবিদ মরহুম আলহাজ চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়বের স্মরণে খতমে কোরআন, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই স্মরণসভায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন সহকর্মী শিক্ষকমণ্ডলী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত বিভিন্ন অতিথিবৃন্দ।
খুটাখালী কিশলয় ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খোদেজা বেগমের সভাপতিত্বে ও শিক্ষক এহছান আল মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনজুর, কিশলয় আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, ঈদগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন এবং শিক্ষক এস এম আকবর হোসাইন খোকন ও শাহাব উদ্দিন খোকা।
স্মরণসভায় অন্যান্য শিক্ষক ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এহছানুল কবির, সিদুল কান্তি শর্মা, জয়নাব বাহার, মো. রিদুয়ানুল হক, নাজমা আকতার সিদ্দিকী, আজিজুর রহমান, নুরুল ইসলাম, সাদিয়াতুল মোস্তারি, বেলাল উদ্দিন এবং নুরুল আমিন কাদেরী। আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পীরজাদা মাওলানা নুর হোছাইন সিদ্দিকী।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত দেড়টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ চৌধুরী মুহাম্মদ আবু তৈয়ব। চকরিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে পুরো কক্সবাজার অঞ্চলেই তিনি ‘মাওলানা তৈয়ব’ কিংবা ‘তৈয়ব হুজুর’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে এই বটবৃক্ষ এতদঞ্চলের সর্বমহলেই ছিলেন এক পরম শ্রদ্ধার পাত্র।
