
সাংবাদিকতা কেবল সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। সেই পরিবর্তনের ধারাকে আরও বেগবান করতে একুশে পত্রিকা নিয়মিত মূল্যায়ন করে আসছে সাংবাদিকদের খবরের প্রভাব বা ‘ইমপ্যাক্ট’। সমাজের অসংগতি তুলে ধরে বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ‘সেরা ইমপ্যাক্ট জার্নালিস্ট’ নির্বাচিত হয়েছেন একুশে পত্রিকার হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দীন। একই সঙ্গে সাহসী ও জনগুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার জন্য ‘বিশেষ সম্মাননা’ (অনারেবল মেনশন) অর্জন করেছেন একুশে পত্রিকার পটিয়া প্রতিনিধি রবিউল হোসেন।
মার্চ মাসের ইমপ্যাক্ট প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে একুশে পত্রিকার ইমপ্যাক্ট অ্যানালিসিস সেল জানায়, মো. আলাউদ্দীনের একটি সংবাদের জেরে হাটহাজারীতে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পদ দখলমুক্ত হয়েছে। গত ২৪ মার্চ একুশে পত্রিকায় ‘হাটহাজারীতে জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ে।
হাটহাজারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনের নির্দেশনায় হাটহাজারীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখায় মো. আলাউদ্দীনকে মাসের সেরা প্রতিবেদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পটিয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক ও সাহসী সংবাদ পরিবেশন করেন পটিয়া প্রতিনিধি রবিউল হোসেন। ৮ মার্চ ‘মাহফিলের নামে পটিয়ায় বাসে বাসে চাঁদাবাজি’ শীর্ষক রবিউল হোসেনের সংবাদের পর সাধারণ পরিবহন শ্রমিকেরা সচেতন হন এবং চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তিও প্রকাশ্যে এসে ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য হন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে এই সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য রবিউল হোসেনকে বিশেষ মূল্যায়নের তালিকায় রাখা হয়েছে।
একুশে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নজরুল কবির দীপু এই দুই সাংবাদিককে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিছক সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা নয়, একুশে পত্রিকা চায় একুশে পত্রিকার সংবাদ মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনুক, দুর্নীতিবাজদের মনে ভয় ধরাক এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করুক। মো. আলাউদ্দীন এবং রবিউল হোসেনের কাজ সেই সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতারই প্রতিচ্ছবি।
আগামী দিনেও একুশে পত্রিকা জনস্বার্থে এমন আপসহীন সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে বলে নজরুল কবির দীপু আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
