একুশে পত্রিকায় সংবাদ: মেধাকচ্ছপিয়ায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন


মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে পাকাবাড়ি নির্মাণের হিড়িক, বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে গত ১ এপ্রিল (২০২৬) একুশে পত্রিকায় একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মারুফ হোসেন।

প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে পরদিন ২ এপ্রিল বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শীতল পালকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করে এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শীতল পাল। আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে মুঠোফোনে সহকারী বন সংরক্ষক শীতল পাল জানান, বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়ার মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানে পাকাবাড়ি নির্মাণের হিড়িক—শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের জেরে বিষয়টি তদন্তের জন্য কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ এপ্রিল মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সরকারি বনাঞ্চল এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনকালে বনের ভেতরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে স্থাপনা (পাকাবাড়ি এবং বেশ কিছু কাঁচা বাড়ি ও নতুন বসতি) স্থাপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সহকারী বন সংরক্ষক শীতল পাল জানান।

এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরির পেছনে সংশ্লিষ্ট মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বনবিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমানের সম্পৃক্ততা থাকারও প্রমাণ মিলেছে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারী লোকজনের ভাষ্যমতে, বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বনের জমিতে এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরির সুযোগ করে দিয়েছেন। অবশ্য, অবৈধ স্থাপনা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা করেছে স্থানীয় বনবিভাগ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক শীতল পাল আরও বলেন, তিনি এখন একটি প্রশিক্ষণে আছেন। সেখান থেকে ফেরার পর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেনের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এরপর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সুবিশাল মাদার গর্জন গাছসমৃদ্ধ সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে পাকাবাড়ি তৈরির হিড়িক পড়েছে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, নতুন বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান যোগদানের পর হঠাৎ করে জাতীয় উদ্যানের সরকারি বনভূমি জবরদখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরিবেশ সচেতন মহলের অভিযোগ, বনের জমিতে অবৈধ বসতি স্থাপনের পেছনে বিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বনবিটের অধীন সংশ্লিষ্ট এলাকাভিত্তিক নিয়োজিত হেডম্যান ও ভিলেজারদের মাধ্যমে বনকর্মীরা কৌশলে টাকা গ্রহণের বিনিময়ে বনভূমিতে অবৈধ এসব বসতি নির্মাণের সুযোগ করে দিয়েছেন। বনের জমিতে অবৈধ বসতি স্থাপনে জড়িত অনেকেও এমন দাবি করেছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, খুটাখালী মেধাকচ্ছপিয়া বনবিটের অধীন গর্জনসমৃদ্ধ জাতীয় উদ্যানের বিস্তীর্ণ বনের ভেতরে পাহাড়ের ঢাল কেটে সমতল করা হয়েছে এবং গাছপালা কেটে নতুন নতুন বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। কোথাও ঝুপড়ি ঘর, আবার কোথাও কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, বনবিট কর্মকর্তা মুমিনুর রহমান ও তাঁর অধীন বনকর্মীদের যোগসাজশ বা অনুমতি ছাড়া বনের জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরির কোনো সুযোগ নেই। মূলত তাঁদের হাতে টাকা পৌঁছে দিলে বসতি নির্মাণে কোনো ধরনের বাধা আসে না। একই সঙ্গে প্রতিটি বসতি স্থাপনের জন্য আলাদা করে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান বনবিটের অধীন এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২টি পাকা ও আধাপাকা বসতঘর নির্মাণাধীন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।