পটিয়ায় হাম ও জ্বরের প্রকোপ, শয্যাসংকটে সিঁড়িতে চিকিৎসা


চট্টগ্রামের পটিয়ার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ ব্যাপক হারে বেড়েছে। সিট বা শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের সিঁড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যাই বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন রোগী জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াকে রোগী বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১১টা পর্যন্ত ২২৭ জন রোগী জরুরি বিভাগ থেকে সেবা নিয়েছেন। এই রোগীদের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। যাঁদের ভর্তি করানো প্রয়োজন, কেবল তাঁদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে হাসপাতালে সিঁড়িতেও রোগী ভর্তি দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

রোগীদের অভিযোগ, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে রোগীদের ভর্তি করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৫০ শয্যার হাসপাতালে এর চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে অতিরিক্ত খরচে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন পটিয়ার অনেক রোগী।

পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারেকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসক ডা. তারেকুল ইসলাম যতক্ষণ জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন, তার মধ্যে আসা রোগীদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই শিশু এবং তারা জ্বর নিয়ে আসা রোগী। এই শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ রোগীর অবস্থা ভালো হওয়ায় তারা জরুরি বিভাগ থেকেই চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে বলে চিকিৎসক ডা. তারেকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব বলেন, অতিরিক্ত রোগীর কারণে বাধ্য হয়ে সিঁড়িতেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগী শিগগিরই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাবেন, তখন তাঁদের স্থলে নতুন রোগীদের সিট বা শয্যা দেওয়া হবে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব আশ্বাস দেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ৫ জন জ্বর নিয়ে ভর্তি। যাঁদের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়াও হামের রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়ব উল্লেখ করেন।