যুদ্ধ করেও যা পায়নি, টেবিলে তা চাইল আমেরিকা!


যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সে বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, সহজ কথা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম—এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও ইরান অর্জনের চেষ্টা করবে না বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জোর দাবি জানান।

ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সময় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৭টা ৮ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করার বিষয়টি একটি দুঃসংবাদ বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনার পর পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ রোববার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। এই আলোচনায় পাকিস্তান অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো স্পষ্টভাবে ইরানকে জানিয়েছে, তবে ইরান তাতে রাজি হয়নি। ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করে, সে জন্য দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মনে করেন। তবে সেটা এখনো প্রতীয়মান হয়নি এবং এমনটা হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে বলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পাকিস্তান সফররত ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় এমন কিছু বিষয় দাবি করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের মাধ্যমেও অর্জন করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালি, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি ও আরও বেশ কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাভিলাষী শর্তগুলো তেহরান মেনে নেয়নি।

আল-জাজিরার খবর বলছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। ওই বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অতিরিক্ত ও বেআইনি। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও আলোচনার সাফল্য নির্ভরশীল বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই আরও বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। ওই পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, পাকিস্তানের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতায় শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নিবিড় আলোচনা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে অসংখ্য বার্তা ও খসড়া বিনিময় হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই আরও লিখেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আলোচনার মূল বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে ও এই অঞ্চলে যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান। যুক্তরাষ্ট্রকে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই লিখেছেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ও বেআইনি দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থকে মেনে নেওয়ার ওপরও এটি নির্ভরশীল বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই স্পষ্ট করেন।