১৪ ঘণ্টার স্নায়ুযুদ্ধ শেষে টেবিলে কী পেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?


পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৪ ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের এ আলোচনার পর প্রক্রিয়াটি এখন কারিগরি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা লিখিত প্রস্তাব বিনিময় করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরান সরকার জানিয়েছে, রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কারিগরি দল এখন বিস্তারিত প্রস্তাব ও ‘বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া’ বিনিময় করছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দূরত্ব কমিয়ে আনতে আলোচনা এখন খসড়া তৈরির চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তান এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করছে। কয়েক সপ্তাহের পরোক্ষ কূটনীতির পর এ আলোচনা এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে। বর্তমানে কারিগরি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের পর ইরানের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ দুই-তিনটি বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর, যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা তাঁদের ছিল না এবং তেমনটা কেউ আশাও করেনি বলে ইসমাইল বাগাই জানান।

এর আগে ইসমাইল বাগাই বলেছিলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করছে প্রতিপক্ষের সততা ও সদিচ্ছার ওপর। পাশাপাশি ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ স্বীকৃতি দেওয়ার ওপরও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জোর দেন।

ইরানের প্রতিনিধিদলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ফার্স নিউজ এজেন্সি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল থেকে সরে দাঁড়াতে অজুহাত খুঁজছে। সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের এ আলোচনার প্রয়োজন ছিল। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয় ও অচলাবস্থা তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের উচ্চাভিলাষী অবস্থান থেকে সরতে নারাজ। সূত্রটি আরও জানায়, ইরানের পক্ষ থেকে পরবর্তী দফার আলোচনার আর কোনো পরিকল্পনা নেই।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার বৈঠক শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামীতেও ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখবে বলে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করেন।

উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা কয়েক দফার নিবিড় ও গঠনমূলক আলোচনায় উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার নিজে এবং পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির মধ্যস্থতা করেছেন।

উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করায় উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, পুরো অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষ এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ইরান যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সে বিষয়ে তাদের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, সহজ কথা হলো, তাঁদের এমন একটি জোরালো প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এমনকি দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম—এমন কোনো সরঞ্জাম বা প্রযুক্তিও ইরান অর্জনের চেষ্টা করবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট দাবি জানান।