
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার দেওদিঘী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যেন চলছে দায়সারা কার্যক্রম। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অফিস তালাবদ্ধ—এমন চিত্রে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন, অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের দায়িত্বে অবহেলা ও দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টায় দেওদিঘী ইউনিয়ন ভূমি অফিস খোলার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে এসে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন অফিসের তালা খুলছেন। প্রতিবেদক ৩০ মিনিট অপেক্ষা করেও অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের উপস্থিতি দেখতে পাননি।
স্থানীয়রা জানান, সেবাপ্রার্থীরা এসে অফিসের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন অফিসে এলেও তখনো অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের দেখা মেলেনি।
দেরিতে আসার বিষয়টি স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন জানান, সপ্তাহের অফিস খোলার প্রথম দিন ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন সীতাকুণ্ড থেকে আসেন, তাই আজকে একটু দেরি হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিনের এভাবে নিয়মিত দেরি কি গ্রহণযোগ্য? আর অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের অনুপস্থিতির দায়ই বা কে নেবে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই দিন অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল ও ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন কর্মস্থলে ছিলেন না। অথচ এই অফিস থেকেই প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিসংক্রান্ত সেবা দেওয়ার কথা। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারপ্রাপ্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন, অফিস সহায়ক সমীর কান্তি শীল এবং ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিনের এই অবহেলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়মেরই অংশ। নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানসহ জরুরি কাজের জন্য এসে দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দূরদূরান্ত থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের তদারকি কোথায়? কেন এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামান নিশ্চিত করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামসুজ্জামানের আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যথায় দেওদিঘী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই অব্যবস্থাপনা আরও প্রকট হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরমে পৌঁছে দেবে।
