বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরেছে ফটিকছড়ির ১৮ চা-বাগানে


প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার চা-বাগানগুলো যেন নতুন করে সজীবতা ফিরে পেয়েছে। উপজেলার ১৮টি চা-বাগানের গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে নতুন কচি পাতা। এর আগে দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাব এবং নানা রোগের কারণে চা-গাছগুলো বেশ রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছিল। তবে টানা বৃষ্টির আশীর্বাদে সেই শঙ্কা এখন অনেকটাই কেটে গেছে।

বৃষ্টির পরশে প্রতিটি চা-বাগানেই নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে; সবুজের সমারোহে ভরে উঠছে চারপাশ। বাংলাদেশ চা সংসদ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাগানগুলোতে পাতা তোলা বন্ধ থাকে। সাধারণত মার্চের শেষের দিকে পাতা তোলার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে এ কাজ থমকে থাকলেও, কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির ফলে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২১টি চা-বাগানের কারখানা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।

চা সংসদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উপজেলার ১৮টি চা-বাগানের মধ্যে ১৩টিতে নিজস্ব চা-প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। দেশের মোট উৎপাদিত চায়ের প্রায় ১০ শতাংশই আসে এই উপজেলা থেকে। কারখানাগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখতে বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে দেখা যায়, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি রীতিমতো চোখ জুড়িয়ে দেয়। চা-গাছগুলো কচি পাতায় ভরে উঠেছে। নতুন কুঁড়ি গজানোয় চা-শ্রমিকদের মুখেও ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। এরই মধ্যে কয়েকটি বাগানে পুরোদমে পাতা তোলার কাজ শুরু হয়েছে; বাকি বাগানগুলোতেও পর্যায়ক্রমে পাতা তোলার প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলার রাঙ্গাপানি চা-বাগানের ব্যবস্থাপক উৎপল বিশ্বাস জানান, বছরের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় চা-পাতা উৎপাদন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল। তবে গত ২৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কল্যাণে এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

উদালিয়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, খরা এবং কুয়াশা শুরুতে বেশ চিন্তায় ফেলে দিলেও এখন সবার মনেই স্বস্তি ফিরেছে। মাটির আর্দ্রতা বাড়ায় গাছে সার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ফলন ও লাভের পরিমাণও বাড়বে।

কৈয়াছড়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক শিটন সরকারের মতে, গত ২৪ মার্চ প্রথম বৃষ্টিতেই বাগানগুলোতে সজীবতা ফিরে আসে। এরপর ২৭ মার্চ এবং ৭ থেকে ১২ এপ্রিলের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চা-শিল্পের জন্য দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করে। বৃষ্টির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ায় গাছে গাছে নতুন কুঁড়ির দেখা মিলেছে। সার্বিক আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার চায়ের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।

চা-সংসদের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম আরও যোগ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে চা উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।