চকবাজারে প্রকাশ্যে শাহীন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা


চট্টগ্রামের চকবাজারে প্রকাশ্যে তাড়া করে আশফাক কবির সাজিদ নামের বিএএফ শাহীন কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে নগরের চকবাজার থানাধীন লাভলি ভিলা সংলগ্ন শিশু কবরস্থান এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আশফাক কবির সাজিদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের সিকদার বাড়ির আবুল হাসেম শিকদারের ছেলে।

চকবাজার থানা পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় একদল সন্ত্রাসী আশফাক কবির সাজিদকে তাড়া করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাক কবির সাজিদকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আশফাক কবির সাজিদের চাচা বদরখালী কলোনিজেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আনম হেফাজ সিকদার জানান, হামলার পর ঘটনাস্থলে থাকা এক বাড়ির দারোয়ান এবং স্থানীয় একজন ব্যক্তি দ্রুত পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় আশফাক কবির সাজিদকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই আশফাক কবির সাজিদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আনম হেফাজ সিকদার আরও জানান, তার ভাতিজা আশফাক কবির সাজিদ চট্টগ্রাম বিএএফ শাহীন কলেজের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। এ বছর শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে সে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে লেখাপড়া করত। আবুল হাসেম শিকদারের ছেলে মেধাবী শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদের এমন হৃদয়বিদারক ও নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে শোকের মাতম চলছে এবং এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোমবার বিকেলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল আজাদ জানান, কিশোর শিক্ষার্থী আশফাক কবির সাজিদ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

মো. বাবুল আজাদ আরও উল্লেখ করেন, নিহত আশফাক কবির সাজিদের পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত সংক্রান্ত বিষয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। তারা ফিরে এজাহার জমা দিলে এই হত্যার ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হবে।