মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে হরিণ জবাই, ভিডিও ভাইরাল


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রকাশ্যে একটি মায়া হরিণ জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ছড়িয়ে পড়া ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি মায়াবী চিত্রা হরিণের পা চেপে ধরে আছেন এবং অন্য একজন ব্যক্তি দা দিয়ে কুপিয়ে হরিণটির গলা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছেন। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কাছাকাছি স্থান থেকে ভিডিওটি ধারণ করার সময় হরিণ জবাইকারী ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানতে চান, কেন ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। পাল্টা জবাবে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি এতে কী সমস্যা, তা জানতে চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাইয়ের ইছাখালি ইউনিয়নের মুহুরী প্রকল্প এলাকায় এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। এই এলাকার পাশেই মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল অবস্থিত। সেখানে গত ১১ এপ্রিল বিকেলে হরিণ জবাইয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় অন্তত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। কয়েক হাজার হরিণের পাশাপাশি এই বন ছিল বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছো বাঘ ও শত প্রজাতির পাখপাখালির আশ্রয়স্থল। কিন্তু এলাকাটিতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বন উজাড় হতে শুরু করে। এর ফলে বন্য প্রাণী ও পাখপাখালি হারিয়ে যেতে থাকে। শিল্পাঞ্চল স্থাপনের জন্য অধিগ্রহণ করা এলাকা ও এর বাইরে এখনো কিছু হরিণের অস্তিত্ব রয়েছে। বন কর্মকর্তাদের ধারণা, জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে সেখান থেকেই লোকালয়ে চলে এসেছিল।

এ বিষয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের মিরসরাই রেঞ্জের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে। বন কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ আরও জানান, প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে গত ১১ এপ্রিল তিনজন দুষ্কৃতকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই তিন ব্যক্তি আশপাশের খামারে কাজ করেন বলে জানা গেছে এবং তাদের ধরতে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহেনশাহ নাওশাদ নিশ্চিত করেছেন।