প্রবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান, অবৈধ অভিবাসন রোধে তাগিদ


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে বিমানবন্দরসহ সর্বত্র তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কনফারেন্স রুমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আয়োজনে এক সমন্বিত সভায় এই আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে সিলেট থেকে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং অবৈধ অভিবাসন রোধে সিলেটের সব মহলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সভায় বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ জানান, অভিবাসীদের কল্যাণে ব্র্যাকের কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই কার্যক্রম যেন শুধু সভা ও সেমিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সে বিষয়ে জোর দেন মো. হাফিজ আহমেদ। এর ফলে বিদেশফেরত অসহায় অভিবাসীরা সহজেই তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি সিলেট অঞ্চল থেকে অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সরকারের সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মো. হাফিজ আহমেদ।

সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম বলেন, অভিবাসী শ্রমিকরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তবে তাদের অবদানের তুলনায় অনেক সময় পর্যাপ্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন মো. সরওয়ার আলম।

তিনি আরও জানান, বিদেশফেরত অভিবাসীদের প্রতি ন্যূনতম মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাও তাদের জন্য বড় ধরনের সান্ত্বনা হতে পারে, কারণ তাদের সমস্যার কথা শোনার মতো সময় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের থাকে না।

সভায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম জানান, প্রবাসীদের প্রতি ধৈর্য ও মমতা নিয়ে সবাইকে সেবা দিতে হবে। এরপর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার জনি লাল দেব সঠিক নিয়ম মেনে সবাইকে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা জনশক্তি কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাজমুস সাকিব সরকারের নানা উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানান, বিদেশ যাওয়ার আগে সবাইকে ভালোভাবে জেনে ও বুঝে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসান। শরিফুল ইসলাম হাসান জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি সিলেটেও বিদেশফেরতদের জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাদের নিরাপদ পুনর্বাসনে বিমানবন্দরে সহায়তার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা করার জন্য অর্থ সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের একাধিক মানুষের প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে শরিফুল ইসলাম হাসান সতর্ক করে জানান, সিলেট অঞ্চল থেকে সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়েছে। এটি বন্ধে সবাইকে তৎপর হতে হবে, যাতে আর কারও এভাবে সাগরে প্রাণ না যায়।

সভায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচনা শেষে বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য সমন্বিত সহায়তা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।