চট্টগ্রামের উন্নয়নে গণমাধ্যমকে পাশে চান মেয়র শাহাদাত


চট্টগ্রামকে একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এই শহর শুধু তার একার নয়, এটি সবার শহর উল্লেখ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজ ও এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানটি চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। সন্ধ্যায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা সপরিবারে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নিজে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানে অসময় ব্যান্ড ও চসিকের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের গান ও নাচের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, গত ১৬ মাসে সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর মতামত, সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কাজের ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করলেই তারা আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবেন।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে দুটি ল্যান্ডফিল থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এছাড়া একটি ল্যান্ডফিল থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ল্যান্ডফিলগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসইভাবে উন্নয়ন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

জলাবদ্ধতা সমস্যার বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বছর তারা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমাতে পেরেছেন। এ বছর খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়েছে এবং হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ চলমান রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্কুল হেলথ স্কিম’ চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ৫০-৬০ শতাংশ ছাড়ে চিকিৎসা সুবিধা পাবে। ইতোমধ্যে ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচি, স্বল্পমূল্যে এনআইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যা মোকাবিলায় শহরের বিভিন্ন মাঠ উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ডা. শাহাদাত হোসেন।

নগরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথা জানান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি ‘চট্টগ্রাম অ্যাপ’ চালুর ঘোষণা দেন। এই মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি সমস্যার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন এবং দ্রুত সমাধান পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বন্দর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর সরকার শক্তিশালী না হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ সম্ভব নয়। সবাই মিলে কাজ করলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য শহর উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ আল নোমান, ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ডা. রাজিব রঞ্জন, বিসিবি পরিচালক ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, দৈনিক পূর্বকোণের পরিচালনা সম্পাদক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, সিএমপির উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শামসুজ্জামান, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মওলা মুরাদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সালাউদ্দীন রেজা, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি রিয়াজ হায়দার এবং সিইউজে-এর সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভসহ বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী।